জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনগুণ রোগী, সেবা ব্যাহত
মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চরম অবকাঠামোগত ও সেবা সংকট দেখা দিয়েছে। শয্যা না পেয়ে রোগীদের মেঝে, করিডোর ও বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮০৪ জন। এর মধ্যে ৫০ শয্যার মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৭৩ জন, ২৪ শয্যার শিশু স্ক্যানো ওয়ার্ডে ১৭৭ জন এবং ৪৮ শয্যার সার্জারি ওয়ার্ডে ১৪১ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এছাড়া হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৬ জন রোগীও সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন গড়ে সাড়ে বিনোদনসহ ১ হাজার ৫শর বেশি মানুষ সেবা নিচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, শয্যা সংকটে করিডোর ও মেঝেতে থাকা রোগীদের বৃষ্টির পানিতে ভিজতে হচ্ছে। মাদারগঞ্জের রোগী আব্দুল্লাহ ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রাব্বি জানান, চিকিৎসা নিতে এসে মেঝে ও করিডোরে থাকার পাশাপাশি পৃথক ওয়ার্ড না থাকায় তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে ৮২টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৫২ জন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি জনবল সংকট, বিকল যন্ত্রপাতি ও আইসিইউ চালু না থাকায় কোটি টাকার অবকাঠামো অব্যবহৃত পড়ে আছে। ২০০১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনেই চলছে বহির্বিভাগের কার্যক্রম।
গত ৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে পরিবেশ ও অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি রোগীদের বরাদ্দের অর্থ সঠিক ব্যবহারে তদন্তের আশ্বাস দেন।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী থাকায় পর্যাপ্ত আবাসন ও সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিজের দীর্ঘদিনের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বদলি সরকারের এখতিয়ার এবং তিনি ইতোমধ্যে বদলির আবেদন করে রেখেছেন। সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক জানান, পদায়ন ও বদলির বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।
এআইএল/সকালবেলা