‘বাহ শিবির চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’
অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তীব্র উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। অপহরণের নাটক সাজিয়ে ওই শিবির নেতার আত্মগোপনের তথ্য পুলিশ প্রকাশ করার পর, শনিবার (১৩ জুন) রাতে ক্যাম্পাসে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
মিছিল থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘বাহ শিবির চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’, ‘আমির থেকে সমর্থক, সব শালারা ধর্ষক’—ইত্যাদি বিভিন্ন তীব্র প্রতিবাদী স্লোগান দেন। তবে এই বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব কিংবা সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।
এর আগে গত শুক্রবার কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে দীর্ঘ নাটকীয়তা শেষে জিসানকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর জিসান দাবি করেছিলেন, একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করেছিল। তবে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর ভিন্ন তথ্য। পুলিশ জানায়, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং ধর্ষণের দায় ও বিয়ের চাপ থেকে বাঁচতে তিনি নিজেই সুপরিকল্পিতভাবে আত্মগোপন করেছিলেন।
জিসান মিয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা (পশ্চিম) জেলা শাখার সাবেক সভাপতি।
পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ মে জিসান দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে কৌশলে তাঁর গর্ভপাত করানো হয়। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য অনড় অবস্থান নিলে জিসান গত শুক্রবার (১২ জুন) বিয়ে করবেন বলে সম্মতি জানান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিয়ে না করার টালবাহানা থেকে তিনি বৃহস্পতিবার আচমকা আত্মগোপনে চলে যান। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি তাঁর চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে উল্টো থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সকালবেলা-কে বলেন, “নিখোঁজ দাবি করা শিবির নেতা জিসানকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে স্পষ্ট যে তাঁকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সাথে অনৈতিক ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের জেরে আইনি ঝামেলা এড়াতে তিনি নিজে আত্মগোপন করেছিলেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এআইএল/সকালবেলা
|