ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে মাঠে নামছে ২০ বিশেষ পরিবীক্ষণ টিম: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ অপরাহ্ণ
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে মাঠে নামছে ২০ বিশেষ পরিবীক্ষণ টিম: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত ২০টি পরিবীক্ষণ টিমকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ঢাকা মহানগরীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় গঠিত ২০টি বিশেষ পরিবীক্ষণ টিমকে মাঠে নেমে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা আপস করা হবে না। বিশেষ করে সরকারি বাসভবন বা আবাসিক কোয়ার্টারে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কিংবা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সরাসরি সংশিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর ফ্ল্যাটের সরকারি বরাদ্দ বাতিল এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হবে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণসংক্রান্ত’ এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কঠোর কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত আন্তরিক ও সচেষ্ট রয়েছেন। তিনি নিজে বিভিন্ন সময় সরকারি হাসপাতাল ও আবাসিক কোয়ার্টারগুলোর সরেজমিন অবস্থা ঘুরে দেখেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বড় বড় সরকারি কোয়ার্টার, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও সরকারি হাসপাতালগুলোতে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা এবং চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

গঠিত পরিবীক্ষণ কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে কড়া নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে থেকে কাজ করছেন। যেখানেই কোনো ধরনের অনিয়ম, অপরিচ্ছন্নতা ও লার্ভা দেখতে পাবেন, সেখানেই তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা এবং কঠোর আর্থিক জরিমানা করবেন। যেসব সরকারি কর্মচারী নিজেদের বাসাবাড়ি ও কোয়ার্টার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন না, তাঁদের সরকারি বাসভবনে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার বা যোগ্যতা নেই।”

নগরীর সার্বিক সৌন্দর্যবর্ধন ও অবকাঠামোগত কাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেক পরিচ্ছন্ন করে এগুলোর পূর্বের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে রাজউক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা ২৯টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৬টি খাল পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ও ময়লা আটকানোর জন্য নেটিং করার কাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাস্তার মোড়ে স্থাপন করা প্লাস্টিক বা লোহার ডাস্টবিন বারবার চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফাইবার বোর্ড দিয়ে বিশেষ নতুন ডাস্টবিন তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাভিত্তিক পর্যায়ক্রমে স্থাপন করবে। গঠিত ২০টি টিম সমন্বিত ও কঠোর ভূমিকা পালন করলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই ঢাকার সুনির্দিষ্ট দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা ও অনুশাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এলাকাভিত্তিক ২০টি জোনে সর্বমোট ২০টি বিশেষ পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১০টি জোনাল কমিটি তাদের মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব জোনাল কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিবীক্ষণের দায়িত্বে থাকা ২০টি জোনাল কমিটির সর্বস্তরের দায়িত্বশীল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।