কালুখালীতে নিখোঁজ জামায়াত কর্মীর হাত-পা বাঁধা দগ্ধ লাশ উদ্ধার
আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘অপরাধ অনুসন্ধান, আইন-শৃঙ্খলা ও জেলা ক্রাইম খতিয়ান’ এবং ‘ডিবি ইনভেস্টিগেশন, হোমিসাইড স্কোয়াড ও লোকাল সিকিউরিটি মনিটরিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও আইনি পদক্ষেপের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত অফিশিয়াল খতিয়ান অনুযায়ী, নিহত আসাদুল ইসলাম কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলমানুষমারি গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি স্থানীয় মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল রবিবার দুপুরে আসাদুল বাড়ি থেকে স্বাভাবিক মেথডে বের হয়ে স্থানীয় সোনাপুর হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর বিকেল গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোনো কন্ডিশন বা সন্ধান না পেয়ে, গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে কালুখালী থানা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজের বিষয়টি অবগত করেন।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া মাদ্রাসার সংলগ্ন একটি নিঝুম পাটক্ষেতের ভেতরে হাত-পা বাঁধা ও পোড়া এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কৃষকেরা। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কালুখালী থানা পুলিশের একটি ক্রাইম টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং লাশটি নিখোঁজ আসাদুলের বলে শনাক্ত করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (ASP) দেবব্রত সরকার এক আইনি ব্রিফিংয়ে বলেন, “সকালে খবর পেয়ে পুলিশ পাটক্ষেতের ভেতর থেকে নিখোঁজ যুবক আসাদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে। অপরাধীরা তাকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় অন্য কোনো গোপন স্থানে হাত-পা বেঁধে হত্যা করার পর লাশটি এই পাটক্ষেতে এনে কেরোসিন বা পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যাতে তার পরিচয় ও ক্ষতচিহ্ন আড়াল করা যায়। আমরা ইতিমধ্যেই আসাদুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে বিশেষ মেথডলজি ব্যবহার করছে পুলিশ।”
হত্যাকাণ্ডের এই কন্ডিশন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজবাড়ী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেন, নিহত আসাদুল ইসলাম কালুখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর একজন অত্যন্ত বিনয়ী ও সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
জেলা জামায়াতের আমির বলেন, “আসাদুল গতকাল বিকেলে সোনাপুর হাটে যাওয়ার পর থেকেই সুপরিকল্পিত মেথডে নিখোঁজ ছিলেন। তাকে রাজনৈতিক বা কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে অপহরণের পর অত্যন্ত অমানবিক ও পৈশাচিক উপায়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর সাথে জড়িত খুনি ও মাস্টারমাইন্ডদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার ও ফাঁসির কড়া দাবি জানাচ্ছি। এই নৃশংস ঘটনাটি নিয়ে আমাদের পুরো দল ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম উদ্বিগ্ন।” কালুখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি কন্ডিশন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চাটমোহর ও সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণের গেমপ্ল্যান শুরু করা হয়েছে।
জান্নাত সকালবেলা
|