চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৬

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত হাফিজুর রহমান জীবননগর শহরের ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক এবং স্থানীয় বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের বড় ভাই। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদরাসা গেটের সামনে দুই দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জামায়াতের ইউনিয়ন আমির ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে শনিবার সন্ধ্যায় হাসাদাহ বাজারে স্থানীয় জামায়াত নেতা ইসরাফিল ও সোহাগের সঙ্গে সদ্য অব্যাহতি প্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসান ও তার বাবার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে মেহেদীর স্বজনরা এসে জামায়াত নেতাদের ধাওয়া দেয়। এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা বাজারে জড়ো হলে ফের সংঘর্ষ বাধে। এসময় হামলাকারীরা বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। তখন দুষ্কৃতকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দুই ভাইকেই কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর জখম করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়। রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাফিজুর রহমান মারা যান। তার ছোট ভাই মফিজুর রহমান বর্তমানে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

সংঘর্ষে জামায়াতের অন্য আহতরা হলেন—সুটিয়া গ্রামের মফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম ও সোহাগ। অন্যদিকে বিএনপির আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসান ও জসীম উদ্দিন। অভিযোগ উঠেছে, রাত ১২টার দিকে আব্দুস সালাম মাস্টার থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশের সামনেই তার ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন। অপরদিকে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহতের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ রোববার সকালে জীবননগর শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে জেলা জামায়াত।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন