শুল্ক ছাড়ের সুফল অধরা: আমদানির ভিড়েও খেজুরের বাজারে অস্থিরতা

শুল্ক ছাড়ের সুফল অধরা: আমদানির ভিড়েও খেজুরের বাজারে অস্থিরতা

ওয়াফিক শিপলু, বগুড়া: পবিত্র রমজান সামনে রেখে খেজুর আমদানিতে সরকার শুল্ক-কর ছাড় দিলেও তার প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না বগুড়ার বাজারে। পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ ব্যবস্থার অস্বচ্ছতা ও মজুতদারির কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর সঙ্গে নিম্নমানের পণ্য মিশিয়ে বিক্রির অভিযোগে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বগুড়া শহরের সাতমাথা, চকসূত্রাপুর, কলোনী ও বনানী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানের খেজুর কেজিপ্রতি ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে উন্নতমানের মাবরুম, আজওয়া ও মেদজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে। ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও ডলার সংকটের অজুহাত দিলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

ভোক্তাদের বড় অভিযোগ হলো—হিমাগারে রাখা গত বছরের পুরোনো ও নিম্নমানের খেজুর নতুন খেজুরের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। আকর্ষণীয় রঙিন মোড়কে প্যাকেটজাত করায় মান বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া অধিকাংশ প্যাকেটে আমদানির তারিখ, মেয়াদের তথ্য বা সংরক্ষণ পদ্ধতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

পাইকারি বাজারে খেজুরের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও খুচরা পর্যায়ে দাম না কমার পেছনে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতি মুনাফাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতন মহলের মতে, সরকারের শুল্ক ছাড়ের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে সরবরাহ শৃঙ্খলে কঠোর নজরদারি ও সিন্ডিকেট ভাঙা জরুরি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, বাজার মনিটরিং ইতিমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। পণ্যের গুণগত মান, মূল্যতালিকা ও মেয়াদ যাচাইয়ের কাজ চলছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন