ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
রুপম চাকমা, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৫ নং বঙ্গলতলী ইউনিয়নের জারুলছড়ি গ্রামে এক নিভৃত পাঠাগারের মাধ্যমে আলোকিত সমাজ গড়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু। ২০২১ সালের শেষের দিকে জারুলছড়ি বন বিহারের অধ্যক্ষ পরম পূজ্য রত্নবোধি ভিক্ষু ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন।
বর্তমানে এই পাঠাগারে নিয়মিত সদস্য সংখ্যা ৫০ জন। তবে সাপ্তাহিক পাঠচক্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। পাঠাগারটিতে কেবল সাধারণ বই পড়াই নয়, বরং নিয়মিত আয়োজন করা হয় সাপ্তাহিক পাঠচক্র। এছাড়া বিলুপ্তপ্রায় চাকমা মাতৃভাষার বর্ণমালা প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় এখানে। ইতিমধ্যেই সফলভাবে পাঁচটি ব্যাচের পাঠচক্র সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আর্থিক অভাবের কারণে কোনো শিক্ষার্থী বা ‘বুনোফুল’ যেন অকালে ঝরে না পড়ে, সেই লক্ষ্য নিয়ে রত্নবোধি ভিক্ষু গঠন করেছেন ‘রত্নবোধি ফান্ড’ নামে একটি চ্যারিটি ফান্ড। বর্তমানে এই ফান্ডের নিয়মিত দাতা সদস্য চারজন। এই তহবিলের মাধ্যমে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ জোগানো হয়।
পাঠাগারটির পরিকল্পনা অনেক আগে থেকে থাকলেও নানা প্রতিকূলতার কারণে ২০২১ সালে তা বাস্তবায়ন করেন ভান্তে। বর্তমানে এটি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। এমনকি এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি এই মহৎ উদ্যোগের। স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ এবং ভান্তের পরিচিত কয়েকজনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি কোনোমতে টিকে আছে।
রত্নবোধি ভিক্ষু জানান, তার মূল লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলা। ধর্মের নামে অন্ধতা, কুসংস্কার ও গোঁড়ামি থেকে প্রজন্মকে মুক্ত করে বিবেকবান ও যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এই পাঠাগারের উদ্দেশ্য। পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেন নতুন প্রজন্ম যুক্তির আলোয় পথ চলতে পারে, সেই শিক্ষাই দেওয়া হচ্ছে এখানে।
পার্বত্য জনপদে নিভৃতে শিক্ষার এই রঙিন বিপ্লব স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই পাঠাগারটি পুরো এলাকার শিক্ষার চিত্র বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ