দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ মার্চ, ২০২৬

দীর্ঘ ১৮ বছর পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর বিএনপি এখন এক নতুন যাত্রার সামনে দাঁড়িয়ে। আগামী ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার, বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। অগস্টের পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশনটি কেবল একটি রুটিন কার্যক্রম নয়, বরং একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা।

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার এখন কেবল দল পরিচালনার দায়িত্বে নেই, বরং রাষ্ট্রের সার্বিক কাঠামোর সংস্কারের বিশাল দায়িত্ব তাদের কাঁধে। দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলনে থাকা এই দলটি সংসদীয় গণতন্ত্রে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ওপর প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকার তাদের এই যাত্রাকে সুসংহত করার চেষ্টা করছে।

নতুন সংসদের বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সূত্রে শোনা যাচ্ছে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত রয়েছে, যেখানে 'শ্যাডো ক্যাবিনেট' গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় আছে। তবে সংসদের কার্যক্রমে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ কতটা থাকবে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা সরকারের সঙ্গে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হলো 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন করা। এই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং এর সাথে সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিগুলো কীভাবে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় উঠে আসে, তা এই অধিবেশনের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হবে। বিশেষ করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো কীভাবে সংসদে আইন হিসেবে পাস হয় এবং সাংবিধানিক জটিলতাগুলো কীভাবে নিরসন করা হয়, তা এই নতুন সংসদের জন্য বড় পরীক্ষা।

প্রথা অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের কার্যক্রমের সূচনা করবেন। এরপর শোক প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সব মিলিয়ে, ১২ মার্চের অধিবেশন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রার মাইলফলক হয়ে থাকবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

নতুন সরকারের জন্য মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। রাজপথের আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগারে আসা এই দলটি কত দ্রুত নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং জনগণের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারে—সেটিই হবে আগামী দিনের রাজনীতির মূল ফোকাস।

মন্তব্য করুন