নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। কেন্দ্র থেকে জোট মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের পক্ষে মাঠে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তা মানতে নারাজ। সম্প্রতি বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে জোট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামার নির্দেশ দিলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষেই নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন।
দলীয় সূত্র মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। তবে জোটগত সমীকরণের কারণে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে সমর্থন দেয় বিএনপি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ২৯ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন হাসান মামুন। এর পরদিনই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এরপর একাধিকবার তাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এদিকে স্থানীয় নেতাদের জোট প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় করতে না পেরে গত ৭ জানুয়ারি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অভিযোগ উত্থাপন করেন ভিপি নূর।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ১১ জানুয়ারি গলাচিপা এবং ১২ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিশেষ দলীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। সভা চলাকালীন দলীয় কার্যালয়ের বাইরে হাসান মামুনের পক্ষে তৃণমূল কর্মীদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা, যা স্থানীয় বিএনপির প্রকৃত অবস্থানকেই ফুটিয়ে তোলে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন জানান, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে হবে। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা পাল্টায় জানিয়েছে, তাদের সম্মতিক্রমেই হাসান মামুন প্রার্থী হয়েছেন এবং কোনো চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবেন না।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন জানান, দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে এই অঞ্চলের মানুষের পাশে থাকায় তৃণমূলের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, ফলে বহিষ্কারের বিষয়টি নিছক রাজনৈতিক প্রচারণা। প্রতিকূল পরিবেশেও আগামী ১২ জানুয়ারির ভোটে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এই আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন