জিয়াবুল হক, টেকনাফ: মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিলসহ নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সীমান্তের ওপারে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে এপারে গুলিবিদ্ধ হওয়া ও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে।
দিনের বেলা কিছুটা শান্ত থাকলেও রাত নামলেই বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ভয়ে উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে সীমান্তবর্তী মানুষের। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নাফ নদী সীমান্তে নতুন করে গোলাগুলির শব্দ শোনা না গেলেও সাধারণ মানুষের মন থেকে আতঙ্ক কাটেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১১ জানুয়ারি) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা সুলতানা আফনান নামের এক শিশুর মাথায় গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা ওই শিশুর চাচা আলী আকবর আক্ষেপ করে বলেন, অবুঝ শিশুটির কোনো অপরাধ ছিল না, অথচ আজ সে সীমান্তের সংঘাতের শিকার।
এছাড়া গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) লম্বাবিল সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামের এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হানিফের বাবা ফজলুল হক জানান, সীমান্তের কোথায় কোথায় মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে তা কেউ জানে না, ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
সীমান্তে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার প্রতিবাদে গত দুদিন ধরে টেকনাফের হোয়াইক্যংসহ আশপাশের এলাকায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী দাবি জানান, সীমান্তে অবিলম্বে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং পুঁতে রাখা মাইন অপসারণ করে সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, সীমান্তের ওপারে রাখাইনে অস্থিরতার কারণে চিংড়ি ঘেরসহ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় যেতে স্থানীয়রা এখন ভয় পাচ্ছেন। কয়েক দিন গোলাগুলির শব্দ কিছুটা কম থাকলেও গুলিবিদ্ধ হওয়া ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এই আতঙ্ক কাটছে না।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, গুলিবিদ্ধ শিশু ও মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধবার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আতঙ্কিত না হতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আর.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন