গৌরীপুরে গরুর হাটে প্রশাসনের ‘নিকু’ বাণিজ্য, রাজস্ব ফাঁকি ৪০ লাখ

গৌরীপুরে গরুর হাটে প্রশাসনের ‘নিকু’ বাণিজ্য, রাজস্ব ফাঁকি ৪০ লাখ

মোঃ হুমায়ুন কবীর, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গরুর হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে ‘নিকু’ বা সমঝোতা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা প্রশাসন ও প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক চক্রের যোগসাজশে এই বাণিজ্যের কারণে সরকার প্রায় ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় বিএনপি নেতার নাম আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর হাট ‘ভুটিয়ারকোনা’। সম্প্রতি হাটটির ইজারা বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করা হলে ১১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল ক্রয় করে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা এবং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদের যোগসাজশে উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সমঝোতার মাধ্যমে ইজারা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তথ্যমতে, সমঝোতার এই ইজারাকে বৈধ দেখাতে গড়মূল্য হিসেবে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ গত বছর এই হাটের ইজারা মূল্য ছিল ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। অর্থাৎ, শুধুমাত্র এই একটি হাট থেকেই সরকার কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।

ইজারা বঞ্চিত ঠিকাদারদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা শহীদ প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে শিডিউল ক্রেতাদের ডেকে সমঝোতা করতে বাধ্য করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিডিউল ক্রেতা বলেন:

“প্রশাসন যখন নিজেই সমঝোতার পক্ষে থাকে, তখন সেখানে প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকে না। বিএনপি নেতা শহীদ প্রতিমন্ত্রীর লোক পরিচয়ে এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন।”

সমঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং নথিপত্র দেখার কথা বলে দ্রুত ফোনের সংযোগ কেটে দেন। উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আজিম উদ্দিন বলেন:

“লোকাল নেগোসিয়েশন (সমঝোতা) হলে আমাদের কিছু করার থাকে না। বিগত ৩ বছরের গড়মূল্যে ইজারা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভুটিয়ারকোনা হাটের ইজারা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, প্রক্রিয়া চলমান আছে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ রক্ষায় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ‘নিকু’ বাণিজ্য বন্ধ করে পুনরায় উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা প্রয়োজন।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন