মাধবদীর আমেনা হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন: ঘাতক সৎ পিতাসহ গ্রেফতার ৯

মাধবদীর আমেনা হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন: ঘাতক সৎ পিতাসহ গ্রেফতার ৯

সুরুজ মিয়া, নরসিংদী: নরসিংদীর মাধবদী থানার আলোচিত আমেনা হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। সামাজিক সম্মানের দোহাই দিয়ে নিজের সৎ মেয়েকে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন পাষণ্ড সৎ পিতা আশরাফ আলী। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগে আমেনা দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার দুপুরে ঘটিকায় নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃত সৎ পিতা আশরাফ আলী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানান, আমেনার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছিলেন। এরই জেরে গত ২৫/০২/২০২৬ তারিখ রাতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমেনাকে সহকর্মীর বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্জন পথে ওড়না পেঁচিয়ে একাই হত্যা করেন।

তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, হত্যার ১০-১২ দিন আগে (১০/০২/২০২৬ খ্রি.) জনৈক হযরত আলীর বাড়িতে আমেনাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় হযরত আলী, এবাদুল, জামান ও গাফফার সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়া আমেনার কথিত প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরার সাথেও তার আগে থেকেই শারীরিক সম্পর্ক ছিল।

মূল আসামী সৎ পিতা আশরাফ আলীকে গ্রেফতারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অপর আসামীদেরও গ্রেফতার করে পুলিশ। মোট ৯ জন গ্রেফতারকৃতরা হলেন:

১. মোঃ আশরাফ আলী (৪০) - আমেনার সৎ পিতা (মূল ঘাতক) ২. নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) - কথিত প্রেমিক (গাজীপুর থেকে গ্রেফতার) ৩. হযরত আলী (৪০) - ধর্ষক ও জবানবন্দি প্রদানকারী (ময়মনসিংহ থেকে গ্রেফতার) ৪. এবাদুল্লাহ (৪০) - ধর্ষক ৫. গাফফার (৩৭) - ধর্ষক ৬. আহাম্মদ আলী মেম্বার (৬৫) ৭. মোঃ ইমরান দেওয়ান (৩২) ৮. মোঃ আইয়ুব (৩০) ৯. ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০)

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সৎ পিতা আশরাফ আলী, কথিত প্রেমিক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এবং ধর্ষক হযরত আলী বিজ্ঞ আদালতে নিজেদের জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ সুপার জানান, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রতিটি আসামীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের কঠোর শাস্তির প্রক্রিয়া চলমান।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন