সুন্দরবনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে আরও ৫ জেলে অপহরণ

সুন্দরবনে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে আরও ৫ জেলে অপহরণ

নাজমুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে আবারও জেলে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের কালামিয়া এলাকার নদী থেকে একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দস্যুরা। অপহৃত জেলেদের মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘জাহাঙ্গীর বাহিনী’ এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জেলে ও মহাজন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন— কচি (৪৫), হিরক (৩৫), সালাম (৪০), রবিউল (৩৫) ও মুজাহিদ (২৬)। তাদের সবার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাশতলী এলাকায়। অপহৃতদের মহাজন ও শেলারচরের মৎস্য ব্যবসায়ী নুরুল হক শেখ জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার জেলেরা কটকার কালামিয়া এলাকায় মাছ ধরছিলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সশস্ত্র দস্যুরা নৌকাযোগে এসে জেলেদের মারধর করে ৩ জনকে রেখে ট্রলারসহ বাকি পাঁচজনকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় দস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

সুন্দরবনে বনদস্যুদের এই তৎপরতা গত এক সপ্তাহে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ১০ জানুয়ারি কটকার কালামিয়া এলাকা থেকে আবু হানিফ ও খায়রুল ইসলাম এবং ১৫ জানুয়ারি দুবলার আমবাড়ীয়া এলাকা থেকে আ. কাদের ও রবিউল মোল্লাকে অপহরণ করা হয়। এদের মধ্যে কাদের ও রবিউল এক লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে রবিবার সকালে ফিরে আসলেও বাকিরা এখনও দস্যুদের কবলে রয়েছেন। গত এক সপ্তাহে ৯ জেলে অপহৃত হওয়ায় সুন্দরবনের জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জেলেরা জানান, জাহাঙ্গীর বাহিনীর নির্যাতনে তারা এখন বনে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। সময়মতো মুক্তিপণ না দিলে জিম্মিদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে দস্যুরা।

এ বিষয়ে শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, দস্যুদের দাপটে জেলেরা বনে মাছ ধরতে না পারলে এ বছর দুবলার শুঁটকিখাত থেকে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম পাঁচ জেলে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে অপহৃতদের উদ্ধার ও দস্যু দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্য সংশ্লিষ্টরা সুন্দরবনে দস্যু দমনে অবিলম্বে কঠোর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন