তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সংঘটিত আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও অহিদ আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে বড়লেখায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। অহিদ আহমদ উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অহিদ আহমদের বড় ভাই মকবুল আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার বড় বোন আকলিবুন নেছা ও স্ত্রী পিয়ারা বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২৭ ডিসেম্বর বড়লেখার বিওসি মাঠ গুদাম এলাকায় দুই সহোদর জামাল উদ্দিন ও আব্দুল কাইয়ুম খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অহিদ আহমদকে ১৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অথচ ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে দূরে একটি সামাজিক সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের দাবি, সঠিক তদন্ত ছাড়াই তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অহিদ আহমদ স্থানীয় চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিন ও বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে বড়লেখা সদর ইউনিয়নের ইসমাইল আলীর বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। বৈঠক শেষে তিনি মুছেগুল বাইতুন নুর জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এবং সেখানে স্থানীয় শিক্ষক, মুয়াজ্জিন ও শ্রমিক নেতাসহ অনেকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ওই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী এবং মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক লোকেশন যাচাই করলেই অহিদ আহমদের নির্দোষিতা প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেন তার স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে চিহ্নিত করলেও ঘটনাস্থলে বা আশপাশে অহিদ আহমদের পরিবারের কোনো জমি নেই। এমনকি ঘটনার পরপরই নিহতের স্বজনরা গণমাধ্যমে ঘটনার বর্ণনা দিলেও সেখানে অহিদ আহমদের নাম আসেনি। পরবর্তীতে একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, নিহত জামাল উদ্দিনের স্ত্রী হালিমা বেগম বাদী হয়ে থানায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যেখানে অহিদ আহমদকে ১৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারটি প্রকৃত খুনিদের শাস্তি দাবি করার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ অহিদ আহমদকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির জোর দাবি জানান।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন