ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মাহবুবুজ্জামান সেতু, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় দফাদার ও মহল্লাদার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের ডোপ টেস্টে অন্তত একজন প্রার্থীর মাদক সেবনের বিষয়টি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত ১৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার পর প্রকাশিত সুপারিশপ্রাপ্ত তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শুরু থেকেই বাদ পড়া প্রার্থীরা অভিযোগ করে আসছেন যে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিভ্রাট, একাধিক পদের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড নম্বর উল্লেখ না থাকা এবং পরীক্ষার সময়সূচির অসামঞ্জস্য ছিল প্রকট। বিশেষ করে মেধাক্রম ও প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ না করায় পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ বলে দাবি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কশব ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত সাগর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং সম্প্রতি মদ্যপ অবস্থায় এক দুর্ঘটনার সাথেও জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, ডোপ টেস্টে একজনের পজিটিভ আসার খবরটি সত্য এবং পজিটিভ হলে তার চাকরি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে তথ্য গোপনের স্বার্থে ওই প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে তিনি রাজি হননি।
অন্যদিকে, নিয়োগ ঘিরে ঘুষ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কশব ইউনিয়নের আরেক প্রার্থী ইমরান হোসেনের পরিবার। তাদের দাবি, নিয়োগ নিশ্চিত করতে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইমরানকে ইচ্ছাকৃতভাবে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। ইমরানের বাবা দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, একজন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের কথা বলে এই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও সাবেক উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা কামরুল আরেফিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নিয়োগ কমিটির মাধ্যমেই সব সম্পন্ন হয়েছে এবং এখানে ঘুষ বা ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ