পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। আইন ভঙ্গ করে জেলহাজত থেকে ভাতা তোলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে ইসমাইল হোসেন গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। উলিপুর থানার এসআই খাইরুল ইসলাম তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো জনপ্রতিনিধি ফৌজদারি মামলায় জেলহাজতে থাকলে তার পদ ও সরকারি সুবিধা স্থগিত হওয়ার কথা। কিন্তু ইসমাইল হোসেনের ক্ষেত্রে সেই আইন কার্যকর হয়নি। তিনি দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে বলেন, “আমার স্বামী জেলে থাকলেও বেতন-ভাতা তুলতে আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না, আমরা নিয়মিত টাকা তুলছি।” এই স্বীকারোক্তির পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, খুনের মামলার আসামি জেলে থেকে সরকারি টাকা তোলা স্পষ্ট অনিয়ম এবং এটি আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে।
এ বিষয়ে ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন ইসমাইল হোসেনের জেলে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “জেলহাজতে থাকা কোনো জনপ্রতিনিধির সরকারি ভাতা পাওয়ার আইনি সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সচেতন মহলের দাবি, কীভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একজন কয়েদি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন, তা খতিয়ে দেখে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
এম.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন