ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ হুমায়ুন কবীর, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নিখোঁজের ৫৫ ঘণ্টা পর আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন (২৬)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে নদীর চর থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও নিহতের সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান রিয়াদ জয়নুল আবেদিন উদ্যান থেকে নৌকায় করে নদীর বিপরীত তীরে ঘুরতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর ছিনতাইকারী দল তাঁদের ঘিরে ধরে। তাঁদের কাছে নৌকা ভাড়া ছাড়া অতিরিক্ত টাকা না থাকায় ছিনতাইকারীরা দুই বন্ধুকে মারধর শুরু করে। শাওন এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে আরও বেদম প্রহার করা হয়।
একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে দুই বন্ধু পালানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা তাঁদের ধাওয়া করে। বন্ধু রিয়াদ সাঁতরে নদী পার হতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। বৃহস্পতিবার সকালে নদীর তীরে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া গেলেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দিনভর তল্লাশি চালিয়ে তাঁর সন্ধান পায়নি। অবশেষে শুক্রবার রাতে নৌকার মাঝিরা চরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
এদিকে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরে সহপাঠী ও বন্ধুদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার অভিযোগ করেন, একজনকে আটক করে নাম-ঠিকানা দেওয়ার পরও পুলিশ শুরুতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করেছে। তবে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, "৯৯৯ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।"
এম.এইচ.কে/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ