ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
রুপম চাকমা, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি): পাহাড়ের দুর্গম জনপদে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছেন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মগবান গ্রামের জুশি চাকমা। ইউটিউব দেখে ফুল চাষের কৌশল রপ্ত করে তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে পাহাড়ের মাটিতেও বাণিজ্যিক ফুল চাষ সম্ভব।
সাধারণত রাঙ্গামাটির বাজারগুলোতে ফুল আসে অনেক দূর থেকে, যা পৌঁছাতে পৌঁছাতে সতেজতা হারায় এবং পরিবহন খরচও হয় অনেক বেশি। এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়েই জুশি চাকমা ফুল চাষে আগ্রহী হন। আধুনিক কৃষির প্রতি ঝোঁক থেকে তিনি ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে চাষাবাদের কলাকৌশল আয়ত্ত করেন। মাত্র ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করেন তাঁর এই স্বপ্নের বাগান।
জুশি চাকমা কেবল চাষেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বিপণনেও ব্যবহার করছেন আধুনিক প্রযুক্তি। তাঁর উৎপাদিত ফুল বাজারজাত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “রাজন্যা ফ্লাওয়ার্স গার্ডেন অব বাঘাইছড়ি” নামে একটি পেজ পরিচালনা করছেন। এর মাধ্যমেই তিনি ক্রেতাদের ফরমায়েশ নিচ্ছেন এবং পাহাড়ের এই টাটকা ফুল পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের দ্বারে।
ইতোমধ্যেই সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন এই নারী উদ্যোক্তা। তিন পার্বত্য জেলাজুড়ে নিজের উৎপাদিত ফুল ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ পাহাড়ের নারীদের স্বনির্ভর হওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জুশি চাকমা বলেন:
“সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পেলে পাহাড়ের কৃষি অর্থনীতিতে এক রঙিন বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের পাহাড়ের নারীরাই আধুনিক কৃষি অর্থনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।”
প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থান সত্ত্বেও জুশি চাকমার এই বাণিজ্যিক পদযাত্রা পাহাড়ের অন্য নারীদের পরিশ্রমী ও উদ্যমী হতে অনুপ্রাণিত করছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার কীভাবে কৃষি অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে, জুশি চাকমা তার এক জীবন্ত উদাহরণ।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ