ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক আলোচিত ঘটনার মাঝে কিছু অধ্যায় লোকচক্ষুর আড়ালে রয়ে গেছে। তেমনই একটি বিরল ঘটনা ঘটেছিল ২০০৫ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে, যা সে সময় ব্যাপক প্রচার না পেলেও রাজনৈতিক মহলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিতে যান বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র নেতা তারেক রহমান। দিনভর রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে রাতে ঢাকা ফেরার কথা থাকলেও সফরের এক পর্যায়ে তিনি আকস্মিকভাবে তাঁর গাড়িবহর টুঙ্গিপাড়ার দিকে ঘুরিয়ে নেন।
গভীর রাতে চারপাশ যখন নীরব, তখন তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে উপস্থিত হন। সমাধির খাদেমকে ডেকে তিনি সেখানে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করেন। জানা যায়, সেই রাতে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টার মতো সেখানে অবস্থান করেছিলেন। তারেক রহমানের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাঁর সফরসঙ্গী অনেক নেতাকর্মীই বিস্মিত হয়েছিলেন, কারণ বিষয়টি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না।
উপস্থিত স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান তখন জানিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু একজন জাতীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং দেশের জন্য তাঁর অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তিনিও একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির সন্তান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় ইতিহাস ও নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাকে তিনি সে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেখানে দলীয় বিভাজন ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা মুখ্য, সেখানে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার একজন শীর্ষ নেতার এই নীরব সফর এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও ঘটনাটি তখন প্রচারমাধ্যমে তেমন আসেনি, তবে পরবর্তী সময়ে এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। জাতীয় নেতৃত্বের প্রশ্নে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এমন ব্যক্তিগত সম্মানবোধের প্রকাশ রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত হয়ে আছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ