হিমালয়ের কোলঘেঁষা উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের দাপট অব্যাহত রয়েছে। টানা ৫ দিন ধরে এই জনপদে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, আজ সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা পাহাড়ি হিম বাতাসের কারণে রাত নামলেই হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে দিনের বেলা সূর্যের দেখা মেলায় কুয়াশা কেটে গিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও কনকনে বাতাসের কারণে জনজীবন থমকে আছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, তেঁতুলিয়ার ওপর দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহের তাপমাত্রার তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি): ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
শনিবার (১০ জানুয়ারি): ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
রোববার (১১ জানুয়ারি): ৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস
সোমবার (১২ জানুয়ারি): ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি): ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
বুধবার (১৪ জানুয়ারি): ৮.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি): ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় গণমাধ্যমকে বলেন, “আজ সকাল ৬টায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সকাল ৯টায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তেঁতুলিয়ায় শীতের এ সময়ে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১ থেকে ২৮ ডিগ্রির ঘরে উঠানামা করছে। একইসঙ্গে রাত ও দিনে উত্তর-পশ্চিম থেকে বয়ে আসা পাহাড়ি হিম বাতাসে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।”
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খাটুনি খাওয়া মানুষ ও কৃষকরা। ভোরে কুয়াশা আর কনকনে শীতের কারণে চা শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা কাজে বের হতে হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনের বেলা রোদ উঠলে শীত কিছুটা সহনীয় মনে হলেও সন্ধ্যার পর থেকেই হিমেল বাতাসের তীব্রতা বাড়তে থাকে, যা সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
মারুফ/সকালবেলা
মন্তব্য করুন