রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে ‘জুলাই ঐক্য’কে জড়ানোর প্রতিবাদ: আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে ‘জুলাই ঐক্য’কে জড়ানোর প্রতিবাদ: আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজনৈতিক প্রেশার গ্রুপ ‘জুলাই ঐক্য’। সংগঠনটি দাবি করেছে, রাষ্ট্রপতি এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তারিখের সত্যতা যাচাই না করেই জুলাই ঐক্যকে একটি বিতর্কিত ঘটনার সাথে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রচার করেছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি’ শিরোনামের সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের প্রসঙ্গ টেনে বিভিন্ন সংগঠনের নাম উল্লেখ করেন। যদিও মূল সাক্ষাৎকারে জুলাই ঐক্যের নাম সরাসরি ছিল না, তবে ওই সংবাদপত্রের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে (৩৪-৫০ সেকেন্ড অংশে) স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রপতির বরাতে ‘জুলাই ঐক্য’র নাম উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি যে সময়ের (অক্টোবর ২০২৪) কথা বলছেন, তখন ‘জুলাই ঐক্য’ নামক কোনো সংগঠনের অস্তিত্বই ছিল না। জুলাই ঐক্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ৬ মে ২০২৫ তারিখে—অর্থাৎ ওই ঘটনার প্রায় সাত মাস পর। ফলে ২৪ অক্টোবর ২০২৪-এর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের ঘটনার সাথে জুলাই ঐক্যকে জড়িয়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থাপন সম্পূর্ণ অবাস্তব ও মানহানিকর।

বিবৃতিতে জুলাই ঐক্য স্পষ্ট করেছে যে, তারা প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো অগণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে লিপ্ত হয়নি। তাদের কার্যক্রম চব্বিশের গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের দাবিসহ নির্দিষ্ট গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে জুলাই ঐক্যকে ‘মব’ হিসেবে ইঙ্গিত করার বিষয়টি বাস্তবতাবিবর্জিত।

এই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে অবিলম্বে ভিডিও ও খবর প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। একই সাথে, প্রায় সাত মাস পরের সংগঠনকে পেছনের তারিখের ঘটনায় সম্পৃক্ত করে বক্তব্য প্রদান করায় বঙ্গভবনের প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দাবি করেছে জুলাই ঐক্য।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন