ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা): আওয়ামী লীগবিহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের ভোটের মাঠে এক ভিন্নধর্মী সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থবির থাকায় দলটির সাধারণ সমর্থক ও বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটাররা এখন কোন দিকে ঝুঁকবেন, তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই বিশাল ভোট ব্যাংককে নিজেদের পক্ষে টানাই এখন জামায়াত, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনী ময়দানে পাঁচজন প্রার্থী সক্রিয় থাকলেও স্থানীয়দের আলোচনায় মূল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মধ্যে। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ২০১৪ সাল থেকেই এই এলাকায় নিয়মিত কাজ করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। বিশেষ করে কয়রা উপজেলা জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তিনি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী জেলার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হলেও এই আসনে তুলনামূলক নতুন। তাঁর বাড়ি এলাকার বাইরে হওয়ায় শুরুতে কিছুটা প্রতিকূলতা থাকলেও বর্তমানে ধানের শীষের জোয়ার কাজে লাগিয়ে জয়ের মালা ছিনিয়ে নিতে মরিয়া বিএনপি।
২০২৬ সালের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, খুলনা-৬ আসনে মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার ১৩১ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পাইকগাছা ও কয়রার চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার সংখ্যালঘু ভোটাররা জয়ের ক্ষেত্রে তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়াতে পারেন। এই ভোটারদের আশ্বস্ত করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীরা দিনরাত প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাবে এই উপকূলীয় জনপদ—ধানের শীষের জোয়ার নাকি দাঁড়িপাল্লার সাংগঠনিক শক্তির জয় হবে, তা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ