দফায় দফায় বৈঠকের পরও আসন বণ্টন নিয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শরিকদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় গত বুধবার বিকেলে ডাকা ১১ দলের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের তথ্যমতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন—উভয় দলই এখন জোটের বাইরে গিয়ে ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনের কথা ভাবছে।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের জরুরি বৈঠক বসেছে জামায়াতসহ জোটের নেতারা। এ বৈঠকের বিষয়ে দলগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো হলেও বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এই ছবিতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদেরসহ অনেককে দেখা গেছে।
তবে এই বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের কোনো নেতা রয়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জামায়াত অফিসের একজন স্টাফ জানিয়েছেন, জোটের বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে জামায়াত নেতাদের বৈঠক চলছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার বিষয়ে গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কথা ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের সময় জানানো হলেও বেলা সোয়া ২টার দিকে তা অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়। এই বিষয়ে সমঝোতা আলোচনার সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, কিছু প্রস্তুতি বাকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান দাবি করেছেন, জোটগত আলোচনা ছাড়াই এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল এবং এর স্থগিতের পেছনে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের মূলে রয়েছে দুই দলের অনড় অবস্থান। ইসলামী আন্দোলন ৫০টির বেশি আসনে নির্বাচন করতে চায়, যেখানে জামায়াত তাদের ৪৫টি আসন ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। বাকি ৫টি আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াত। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন ৩০টি আসন উন্মুক্ত রাখার দাবি জানালে জামায়াত তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এমন অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন এখন বিকল্প জোট গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি ও জাগপাসহ আটটি দলের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছে।
অন্যদিকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধু আসন সংখ্যা নয়, সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপ্রধান কে হবেন—এমন আগাম শর্তের কারণেও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জামায়াত মনে করছে, এখনই এসব বিষয় স্পষ্ট করার সময় আসেনি। ইসলামী আন্দোলন তাদের অবস্থানে অনড় থাকলে তাদের ছাড়াই বাকি শরিকদের নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করার কথা ভাবছে জামায়াত। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত আলোচনার সুযোগ থাকলেও দুই দলের বর্তমান অবস্থান ইসলামপন্থী দলগুলোর নির্বাচনি ঐক্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
আর.এম/সকালবেলা
মন্তব্য করুন