বাবার পথেই হাঁটছেন তারেক রহমান

বাবার পথেই হাঁটছেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাদামাটা ও নীতিবান জীবনযাপনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার শৈলীতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি এমন কিছু ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছেন, যা ইতিমধ্যে দেশের সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাবার মতোই সাধারণ মানুষের কাতারে থেকে কাজ করার এই মানসিকতা রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও বিলাসিতা বর্জন করে যেভাবে ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই পথেই হাঁটছেন। সম্প্রতি সচিবালয়ে তাকে সাধারণ সাদা শার্ট ও প্যান্ট পরে অফিস করতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল কমিয়ে আনা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও নিজস্ব জ্বালানি ব্যবহার এবং যানজট এড়াতে সাধারণ যানবাহনের মতো সিগন্যালে অপেক্ষা করার মতো সিদ্ধান্তগুলো জনমনে গভীর রেখাপাত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ১৩-১৪টি থেকে কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং চলাচলের সময় রাস্তা বন্ধ করার প্রচলিত প্রথা বাতিল করা হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া সাধারণ চলাচলের সময় গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার অংশ হিসেবে শনিবারও অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রোজার প্রথম দিনে সকাল ৯টার আগেই তিনি সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন সময়ানুবর্তিতায় পুরো সচিবালয়ে কর্মচাঞ্চল্য ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। জোহরের নামাজের বিরতিতে তার নিজ কার্যালয়ে সবার সঙ্গে নামাজ আদায় করার বিষয়টিও কর্মকর্তাদের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া জনভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক অধিকাংশ সময় সচিবালয়ে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান যেভাবে ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদন ও আশার রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডে সেই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিদের ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা এবং মহানবীর (সা.) ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণের প্রতিশ্রুতি একটি সাহসী পদক্ষেপ। এসব উদ্যোগ শুধু আচরণগত পরিবর্তন নয়, বরং নেতৃত্বের যে জনগণের ঊর্ধ্বে নয়—সেই বার্তাই জনমনে স্পষ্ট করছে। সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর এসব ব্যতিক্রমী ও কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগকে নতুন দিনের সূচনা হিসেবে দেখছেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন