সামনে আরো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে যাবে জামায়াত-শিবির: রাশেদ খান
অনলাইন ডেস্ক: সামনের দিনগুলোতে জামায়াত-শিবির রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে আরও ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিতে পারে এবং তাদের সেসব কর্মসূচিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগও প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট, ২০২৬) নিজের অফিশিয়াল ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াত-এনসিপি জোট। সে স্থান থেকে একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ‘সচিবালয় ঘেরাও’ করতে সামনের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গতিপথে বাধা প্রদান করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে রাশেদ খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো রাজনৈতিক দল—যাদের ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা বা ক্ষমতায় যাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিপ্রায় রয়েছে, তারা কখনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু ‘সচিবালয়’ ঘেরাও করতে যায় না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়কে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখা দেশ ও জাতির স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি।”
জামায়াত-এনসিপি জোটের এই আন্দোলনকে চরম রাজনৈতিক ভুল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “আজ জামায়াত-এনসিপি জোট যে হঠকারিতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দেখাল, তা দিনশেষে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্যই চরম নেতিবাচক প্রমাণিত হলো। প্রশাসন ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে গেল যে, জামায়াত-এনসিপিসহ ৯ দলীয় এই জোটটি মূলত একটি চরমপন্থী বা র্যাডিক্যাল ফোর্স। তারা কোনোদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে প্রশাসনকে জিম্মি করে কর্মকর্তাদের একযোগে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবে।”
আজ পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যদি শক্ত অবস্থান নিয়ে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা না দিত, তবে জামায়াত-শিবির পুরো সচিবালয় এলাকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করত বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিনিধি।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে রাশেদ খান আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ চক্রান্তের অংশ হিসেবে হয়তো দেশকে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর করতে সামনে আরো বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি হাতে নিতে পারে জামায়াত-শিবির। শুধু তা-ই নয়, সামনে তাদের এসব কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগও ভেতরে ঢুকে পড়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।”
সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তিতে বিশ্বাসী সব বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে সতর্ক, সোচ্চার এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন রাশেদ খান।
|