শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ণ
শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
(ছবি: সংগৃহীত)

জাতীয় প্রধান:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান গুঞ্জন ও আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন মো. সাহাবুদ্দিন।

বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল সূত্র ও বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার দুপুর নাগাদ রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাতে পারেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুথানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা না-থাকা নিয়ে রাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনার সূচনা হয়। তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সেই সময়ে তাঁর কাছেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ পাঠ করে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে বিএনপি।

বিগত দুই বছরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদ থেকে অপসারণের জোরালো দাবি জানালেও, সে সময় প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে তাঁকে পদে রাখার পক্ষে কৌশলগত অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই রাজনৈতিক অবস্থানের আমূল পরিবর্তন ঘটে।

দলীয় ও উচ্চপর্যায়ের সূত্রমতে, চলতি মাসের শুরুতেই সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের অনানুষ্ঠানিক ও মৌখিক বার্তা প্রদান করা হয়। ঐ সময়ে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নিতে কিছু দিনের সময় চেয়ে নেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বর্তমানে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পরিচালিত তাঁর সিটি স্ক্যান ও এমআরআই রিপোর্টে বেশ কিছু স্নায়ুবিষয়ক জটিলতা ধরা পড়েছে। পদত্যাগের পর তিনি প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার নিমিত্তে সহধর্মিণীকে সাথে নিয়ে দ্রুতই সিঙ্গাপুর গমনাগমনের পরিকল্পনা করছেন।

অন্যদিকে, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, চলতি বছরের গত ৯ মে থেকে ১৮ মে সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগে টেলিফোনে আলাপচারিতায় অংশ নেন। বিষয়টি সরকারের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নজরদারিতে উঠে আসার পরই তাঁকে পদ ছেড়ে সম্মানজনক বিদায় নেওয়ার জোর বার্তা দেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে পদত্যাগ করতে চান কিংবা দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, তবে তিনি স্পিকারকে সম্বোধন করে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা প্রদান করবেন। সে ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন এবং সংবিধান অনুসরণে পরবর্তী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মন্তব্য করুন