পারেদেসের শাস্তি চান না স্প্যানিশ তারকা গাভি
অনলাইন ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে উত্তেজনাকর ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ ফুটবলে অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ গাভিকে ধাক্কা মেরে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ইতিমধ্যে একজন স্বাধীন প্রসিকিউটরের মাধ্যমে বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রতিপক্ষের এমন অশোভন আচরণের পরও অসাধারণ ফুটবলীয় মানসিকতার পরিচয় দিয়ে পারেদেসের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না চাপানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার গাভি।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই। বদলি হিসেবে নামা আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস মেজাজ হারিয়ে স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে তীব্র বাক্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে ও সতীর্থের পাশে দাঁড়াতে সেখানে হস্তক্ষেপ করেন গাভি। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে গাভিকেই প্রধান লক্ষ্য বানিয়ে বসেন পারেদেস এবং একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাঠের মাটিতে ফেলে দেন।
ঘটনাটি ফিফার নীতিমালার পরিপন্থী হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা নিষেধাজ্ঞার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে স্প্যানিশ এক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিপরীত সুর ছড়িয়েছেন গাভি।
গাভি বলেন, "আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় না এই ঘটনার জন্য তাকে (পারেদেস) কোনো ধরনের স্থগিতাদেশ বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত। আমি বুঝি যে টেলিভিশনের সামনে থাকা শিশুদের জন্য এটি খুব একটা ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করে না, তবে ফুটবলের একটা আবহ বা বাস্তবতা এমনই থাকে—যা কিছুটা শারীরিক লড়াই এবং আক্রমণাত্মক আবেগে ভরপুর।"
স্প্যানিশ এই তরুণ মিডফিল্ডার আরও যোগ করেন, "সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হতো যদি ম্যাচ চলাকালীন সময়েই বিষয়টি খেয়াল করে রেফারি তাকে লাল কার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিতেন। তাহলে ঝামেলাটা ওখানেই চুকে যেত। দিনশেষে আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে এগুলো ফুটবলেরই একপ্রকার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং খেলাটির মেজাজটাই আসলে এমন হওয়া উচিত।"
অন্যদিকে, ম্যাচের পর পুরো বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিয়ান্দ্রো পারেদেসও। তার দাবি, তিনি প্রথমে কেবল স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছিলেন, তবে স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা শারীরিক ও আক্রমণাত্মক রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাটিকে 'ছেলেমানুষি' বলেও অভিহিত করেন এই আর্জেন্টাইন ফুটবলার।
|