‘ইনকিলাব’, ‘ইনসাফ’ ও ‘আজাদী’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভাষা-সম্পদ: হেফাজতে ইসলাম

‘ইনকিলাব’, ‘ইনসাফ’ ও ‘আজাদী’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ভাষা-সম্পদ: হেফাজতে ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক অর্জনকে ধারণ করতে ‘ইনকিলাব’, ‘ইনসাফ’ ও ‘আজাদী’ শব্দগুলোকে জনপরিসরে ব্যাপকভাবে চর্চার আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এসব শব্দকে গণঅভ্যুত্থানের ‘ভাষা-সম্পদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিবৃতিতে আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, পরাজিত ও চিহ্নিত ‘কালচারাল ফ্যাসিস্টরা’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত ঐতিহাসিক আরবি-ফারসি শব্দগুলোর বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। তিনি এদেরকে ‘জুলাই বিপ্লবের শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ইসলামবিদ্বেষী সেক্যুলার ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে এই শব্দগুলোর ব্যাপক চর্চা প্রয়োজন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের একজন মন্ত্রীর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের বিরুদ্ধে কথা বলার সমালোচনা করে তিনি একে ‘গোলামি মানসিকতা’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আজাদী আন্দোলন থেকে শুরু করে ইতিহাসের নানা পর্বে এই আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দগুলো বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে এবং গণমানুষের লড়াইয়ে প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর মতে, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ‘ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রেতাত্মা’ ভর করা একদল এলিট আজ বাংলা ভাষার ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রাণশক্তি নষ্ট করতে তৎপর হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই পক্ষটি কখনো ‘শহীদ মিনার’ বা ‘আওয়ামী’ শব্দের পরিবর্তন চায়নি, কিন্তু ঐতিহাসিক স্লোগানগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রগতি ও শিল্পের নামে যারা ফ্যাসিবাদ লালিত গণবিরোধী বয়ান জিন্দা করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান বজায় রাখা হবে। গণমাধ্যম ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে কাজ করা ব্যক্তিদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কালচারাল লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে এবং শহীদ ওসমান বিন হাদীর চেতনা বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন