ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান সংঘাতের সময়কাল এবং এর সমাপ্তি কীভাবে হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তেহরানই গ্রহণ করবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের সূচনা করলেও এর পরিণতি নির্ধারণের চাবিকাঠি এখন ইরানের হাতে। রোববার (১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে জানা যায়, আরাগচি তার বার্তায় গত দুই দশকে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, তেহরান তার পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তের ওই যুদ্ধগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করেছে। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানে বোমাবর্ষণ করে ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে কোনোভাবেই দুর্বল করা সম্ভব নয়। তাদের বিশেষ 'ডিসেন্ট্রালাইজড মোজাইক ডিফেন্স' কাঠামোর কারণে ইরান যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালীনই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অথচ এর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় উভয় পক্ষ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানিয়েছিল। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর পাল্টা জবাবে ইরান 'অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪' শুরু করে, যার আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুসহ প্রায় প্রতিটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ রব গাইস্ট পিনফোল্ড জানান, ইরান কৌশলগতভাবে ইসরায়েলের তুলনায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। তেহরানের ধারণা, এসব দেশে আঘাত হানলে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বর্তমানে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে এক কঠিন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ