ইরানের হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি কাতারের

ইরানের হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি কাতারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাতারের ভূখণ্ডে ইরানের নজিরবিহীন হামলার পর এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দোহা। সোমবার (২ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মজিদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, কাতারের জনগণের ওপর এই ‘ন্যক্কারজনক’ হামলার উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার দোহা সংরক্ষণ করে এবং ইরানকে এই ধৃষ্টতার জন্য ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রখ্যাত সাংবাদিক বেকি অ্যান্ডারসনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আল-আনসারি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে কাতারের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তিনি জানান, কাতার এখন কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয়; বরং তাদের মূল মনোযোগ এখন দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো রক্ষা করা। কাতার ইতিপূর্বে ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং অসংখ্য ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আল-আনসারি আরও দাবি করেন, ইরানের এই হামলায় সামরিক নিশানার পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক জনপদ এবং বাণিজ্যিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মজিদ আল-আনসারি বলেন, সৌদি আরবের তেল শোধনাগারের কাছে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনা এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা কাতারকে ‘মর্মান্তিকভাব উদ্বিগ্ন’ করে তুলেছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে কাতার ইতিমধ্যে তাদের স্থল ও সমুদ্রসীমানায় অবস্থিত অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যদিও ইরান দাবি করে আসছে যে, তারা কোনো উপসাগরীয় দেশকে নয় বরং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে।

কাতারের এই মুখপাত্র আরও জানান, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা নিজেদের মধ্যে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখছেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ইরানের আগ্রাসন রুখতে কাতার ও তার মিত্ররা যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রবল হয়ে উঠেছে।

এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন