কিশোরগঞ্জে পাট বীজ না পেয়ে গবেষণা কেন্দ্র ঘেরাও, গুদামরক্ষক অবরুদ্ধ

কিশোরগঞ্জে পাট বীজ না পেয়ে গবেষণা কেন্দ্র ঘেরাও, গুদামরক্ষক অবরুদ্ধ

কিশোরগঞ্জ পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্রে পাট বীজ বিক্রিতে অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগে গুদামরক্ষককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। সোমবার (২ মার্চ) দুপুর একটার দিকে পাট বীজ না পেয়ে কয়েকশ কৃষক গবেষণা কেন্দ্রটি ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে গুদামরক্ষক আলমগীর হোসেনকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সরেজমিনে জানা গেছে, সোমবার ছিল পাট জাতীয় ফসলের বীজ বিক্রির নির্ধারিত দিন। এ উপলক্ষ্যে ভোর থেকেই সদর ও করিমগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা গুদামের সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে থাকেন। কৃষকদের অভিযোগ, সকাল থেকে বীজ বিক্রি শুরু হলেও গুদামরক্ষক আলমগীর হোসেন তার ঘনিষ্ঠজন ও প্রভাবশালী একটি চক্রের কাছে গোপনে সিংহভাগ বীজ বিক্রি করে দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ কৃষকদের জানানো হয় যে বীজ শেষ হয়ে গেছে। এতে উপস্থিত কৃষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং গুদামে বীজ মজুত আছে দাবি করে গুদামরক্ষককে চ্যালেঞ্জ করেন। পরে কৃষকরা জোরপূর্বক গুদামে প্রবেশ করে ৯ মণ পাট বীজের মজুত দেখতে পান বলে দাবি করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে কৃষকরা গুদামরক্ষককে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, সরকারিভাবে প্রতি কেজি পাট বীজ ২২০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া গেলেও বাইরে তা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। সদর উপজেলার নীলগঞ্জ গ্রামের কৃষক আব্দুল মোতালিব বলেন, ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়েও বীজ পাইনি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে বীজ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। করিমগঞ্জের আরজু মিয়া অভিযোগ করেন, বীজ শেষ বলার পর তারা ভেতরে গিয়ে ৯ বস্তা বীজের মজুত দেখতে পান। প্রতিবাদ করলে তাদের লাঠিচার্জের ভয় দেখানো হয়। জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, তিন দিন ঘুরেও যদি জনপ্রতিনিধিরা বীজ না পায়, তবে সাধারণ কৃষকদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গুদামরক্ষক মো. আলমগীর হোসেন। তিনি দাবি করেন, কৃষকরা তাকে ভুল বুঝেছেন এবং কোনো অনিয়ম হয়নি। আঞ্চলিক কেন্দ্রের অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, গুদামে মোট ১ হাজার ৩৮০ কেজি বীজ ছিল, যার মধ্যে ৯০০ কেজি বিক্রি করা হয়েছে এবং বাকি ৪৮০ কেজি গবেষণার জন্য সংরক্ষিত। কিশোরগঞ্জ পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন