ফ্যামিলি কার্ডের ডাটাবেজে আসবে সাড়ে ৪ কোটি পরিবার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ডের ডাটাবেজে আসবে সাড়ে ৪ কোটি পরিবার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: দেশের নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি পরিবারের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য একটি একক ও কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজে যুক্ত করা হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই তথ্য সংগ্রহ অভিযানে মাঠে কাজ করছেন ৬৬ হাজার ৮১৫ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পেতে কোনো নাগরিককে সরকারি অফিস বা মধ্যস্বত্বভোগীদের পেছনে ঘুরতে হবে না। তথ্য সংগ্রহকারীরাই সরাসরি প্রতি ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছাবেন। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক 'প্রক্সি মিন্স টেস্ট' (PMT) পদ্ধতির মাধ্যমে ডেটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকৃত যোগ্য পরিবার চিহ্নিত করা হবে। ফলে এতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।

প্রাথমিকভাবে ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত সাড়ে ৪ কোটি পরিবার (প্রতি ৫ জন সদস্যকে এক পরিবার ধরে) থেকে পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে ভাতার জন্য নির্বাচন করা হবে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই নতুন ৪১ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে এই ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে এবং আগামী চার বছরের মধ্যে যোগ্যতা সম্পন্ন সব পরিবার পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে মোট ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হবে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

কার্ডধারী নারীদের জন্য প্রদানকৃত ফ্যামিলি কার্ডটি হবে অত্যন্ত আধুনিক ও সুরক্ষিত। এতে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (NFC) প্রযুক্তি সংযুক্ত থাকবে। কার্ডটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘টাকা পে’ (TakaPay) পেমেন্ট স্কিমের সাথে সংযুক্ত থাকায় সুবিধাভোগীরা এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেলস (POS) টার্মিনাল কিংবা বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহার করে খুব সহজেই নিজেদের সুবিধাজনক স্থান থেকে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।

স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো যোগ্য পরিবার যাতে বাদ না পড়ে, সে জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের 'সেবা কেন্দ্র' থেকে অনলাইন ও অফলাইনে আপিল এবং অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকছে। এছাড়া তথ্যের শতভাগ সঠিকতা নিশ্চিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘আইবাস’ (iBAS++) পদ্ধতির সাথে সব তথ্য ক্রস-চেক করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।