জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, তাঁর সরকার জনগণের সামনে দেওয়া নির্বাচনি ইশতেহার এবং ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে। রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। নির্বাচনি ইশতেহার এবং জুলাই সনদে যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার সবগুলোই সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।”

জনপ্রশাসন সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “সততা, মেধা ও দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনে পদায়ন ও বদলির প্রধান মাপকাঠি। কোনো বিশেষ তদবির বা অনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।” এ সময় তিনি জেলা প্রশাসকদের দেশের যেকোনো প্রান্তে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “বিগত সময়ে দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে এসব সমস্যা সমাধানের স্থায়ী পথ খুঁজছি। মনে রাখতে হবে, সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়। তাই জনসেবাকেই পরম ব্রত হিসেবে নিতে হবে।”

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের উদ্দেশে বলেন, “দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর জন্য আমি আপনাদের নির্দেশ দিচ্ছি।”

এদিন সকালে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সম্মেলনস্থলে যান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ তাঁকে করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনের প্রথম দিনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশন শেষে বিকেলে জেলা প্রশাসকরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন আগামী ৬ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন