জনগণের বিশ্বাসই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ণ
জনগণের বিশ্বাসই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। তাই দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন।"

বুধবার (৬ মে ২০২৬) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’-এর বার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের যেকোনো আইনগত ও মানবিক উদ্যোগে সরকার পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। আমাদের সমস্যা অসংখ্য হলেও সম্ভাবনাও কম নয়। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারলে তারাই বদলে দিতে পারবে প্রিয় বাংলাদেশকে।" তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মানুষের উপকার করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকার প্রধান বলেন, "রাষ্ট্রের খুবই ক্ষুদ্র ইউনিট হলো একটি পরিবার। পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ সুসংহত হয়।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যে ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, জনগণ তাতে সমর্থন জানিয়েছেন। সুতরাং এটি এখন আর কেবল বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়, এটি এখন জনগণের ইশতেহার। এই ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের।" তিনি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মাঠ পর্যায়ে সরকারের ‘প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তারেক রহমান বলেন, "জনগণ যদি সত্যিই রাষ্ট্রের মালিক হয়, তবে তারা যেন অফিসে গিয়ে আপনাদের সেবায় সেই মালিকানা অনুভব করতে পারেন। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া মানুষ যাতে সম্মানের সাথে দ্রুত সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সাথে আন্তরিক ব্যবহার করলে সরকারের প্রতি আস্থা বাড়ে। আর হয়রানি হলে কেবল সেবা নয়, রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের বিশ্বাসও নষ্ট হয়।"

আইনের পাশাপাশি মানবিকতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, "একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করাও খুব জরুরি। ছোট মনে হলেও জনমনে এসব বিষয়ের প্রভাব অনেক বেশি।"

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে সচিবালয়ের অফিস থেকে সম্মেলন কেন্দ্রে পৌঁছান। এ সময় গাড়িতে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের পর এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন