চীনের বাজারে বাংলাদেশি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলের নতুন দিগন্ত, মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়
অনলাইন ডেস্ক: চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের হ্যালো ওয়ার্ল্ড লিভিং মলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘২০২৬ মেকং-লানচাং ফল, কফি, ফুল ও বিয়ার কার্নিভ্যাল’। ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশসহ মেকং অঞ্চলের ৮টি দেশের বৈচিত্র্যময় কৃষিপণ্য নিয়ে ৯৪টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে।
উৎসবে অন্যতম সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। শুরুর দিন থেকেই মেলার বাংলাদেশি স্টলকে ঘিরে চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও ভিড় লক্ষ করা গেছে।
আঞ্চলিক কৃষি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলবন্ধন জোরদারের লক্ষ্যে চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, লাওস, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড এই আয়োজনে নিজ নিজ দেশের নিজস্ব ও বৈচিত্র্যময় ফল ও কৃষিপণ্য প্রদর্শন করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুনমিংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বলেন, "বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য বাণিজ্যের সম্পর্ক প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। বিশেষ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারে ‘থ্রি ফ্রিস অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতির আওতায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি (ফাইটোস্যানিটারি) প্রটোকল স্বাক্ষরিত হওয়া একটি বড় অর্জন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের তাজা আম সফলভাবে চীনের বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে পেয়ারা সহ অন্যান্য প্রিমিয়াম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইউনানকে কেন্দ্র করে পুরো চীনজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশি কৃষিপণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করার নতুন সুযোগ তৈরি হলো।
|