বাজেট অধিবেশনের আগেই মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের সংকেত

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ণ
বাজেট অধিবেশনের আগেই মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশাসনিক চাপ সামলাতে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গতি আনতে বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেট অধিবেশনের আগেই এই রদবদল ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। নীতি-নির্ধারণী মহলে নতুন করে ৫-৬ জনের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানের মন্ত্রিসভায় আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনের এরশাদ উল্লাহ এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের বি এম মোশাররফ হোসেনকে নতুন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

সংরক্ষিত নারী আসন থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় থাকলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় বিকল্প ভাবা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ড. আব্দুল মঈন খানকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকেও মন্ত্রী হিসেবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস বা দপ্তর পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বর্তমানে মন্ত্রিসভায় নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় ওই অঞ্চল থেকে একজনকে অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো চিন্তা চলছে। এছাড়া যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের ধীরগতি বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ধরা পড়েছে, সেখানে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। অদক্ষতা বা বিতর্কের কারণে কারো কারো দায়িত্ব কমিয়ে ‘দপ্তরবিহীন মন্ত্রী’ করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিএমও-র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় ফাইল ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ ও সরকারের স্বার্থ বিবেচনা করেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) জানিয়েছেন, দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য বর্তমানে তাঁর কাছে নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজেট অধিবেশনের আগেই সরকারের এই নতুন উদ্যোগ চূড়ান্ত রূপ পাবে, যা দেশের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণশক্তি জোগাবে।

মন্তব্য করুন