সমাজ থেকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মুছে দেবে বিএনপি: রুহুল কবির রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক: সমাজ থেকে ধর্ষণ, নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শেকড় চিরতরে মুছে ফেলতে বিএনপি সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “নারীর সার্বিক ক্ষমতায়ন এবং সমাজে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদেরও মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।”
দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন, আমাদের প্রত্যেকেই এই গণতান্ত্রিক সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুধু মন্ত্রিত্ব বা সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি থাকলেই যে সরকারের অংশ হতে হবে, বিষয়টি মোটেও তা নয়।”
মহিলা দলের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকারে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদেরও অপরিসীম রক্ত, ঘাম ও ত্যাগ মিশে রয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে আপনারা রাজপথে ছিলেন, তাই আপনারাও সমানভাবে এই সরকারের অংশীদার।”
নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় চালু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ঘরে ঘরে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক অবস্থান বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, “সরকারের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিকে সফল করতে মহিলা দলের তৃণমূল নেত্রীদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকার যেসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, তা সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তুলে ধরতে হবে।”
আলোচনা সভায় মহিলা দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।