কয়েল-মশারিতেও মিলছে না রক্ষা, মশার দখলে রাজধানী

কয়েল-মশারিতেও মিলছে না রক্ষা, মশার দখলে রাজধানী

কয়েল, ইলেকট্রিক ব্যাট আর মশারি—এই তিন অস্ত্র নিয়েও যেন কূল পাচ্ছেন না রাজধানীবাসী। বসার ঘর থেকে শোবার ঘর, সর্বত্রই এখন চলছে মশার রাজত্ব। দিনের আলো কমতেই শুরু হয় মশাদের রণপ্রস্তুতি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার নর্দমা, ডোবা এবং কচুরিপানায় ভরা জলাশয়গুলো এখন মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় মশার ঘনত্ব গত জানুয়ারির তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা এবং পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি শোচনীয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ নগরজীবন। কয়েল, অ্যারোসল—কিছুতেই মিলছে না স্বস্তি। তাই রাজধানীর কাওরানবাজার এলাকায় অনেককে দিনের বেলাতেও মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে দেখা যাচ্ছে। বাসাবাড়িতেও একই চিত্র। মোহাম্মদপুর এলাকার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন দুই মাস আগে। এখনো শারীরিক ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তিনি জানান, অ্যারোসল দিলে সাময়িক সময়ের জন্য মশা দূরে থাকে, কিন্তু ১০ মিনিট পর আবার আগের মতো হয়ে যায়। মশার এত উৎপাত যে দিনের বেলাতেও মশারি টানিয়ে রাখতে হয়। তার স্ত্রী জানান, শাহজাহান সাহেব এখন ২৪ ঘণ্টাই মশারির ভেতরে থাকেন।

মোহাম্মদপুরের নবোদয়, মোহাম্মদীয়া ও কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকার আশপাশের খালগুলো যেন মশার উর্বর প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রামচন্দ্রপুর খালে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে প্রায় বন্ধ পানির প্রবাহ। ফলে রাতের পাশাপাশি দিনেও মশার কামড়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা মাঝে মাঝে নৌকা করে ওষুধ ছিটিয়ে যান, কিন্তু এতে মশা কমার বদলে উল্টো বেড়ে যায়। নামাজ আদায়েও সমস্যা হয়। পাশাপাশি কয়েল ও অ্যারোসল ব্যবহারে শিশুদের শ্বাসকষ্ট বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

শুধু মোহাম্মদপুর নয়, ধানমন্ডি, উত্তরা, মিরপুর, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। একই অবস্থা কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া ও শ্যামপুর এলাকাতেও। এদিকে সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসে মশার ঘনত্ব প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাল, নর্দমা ও জলাশয় পরিষ্কারের পাশাপাশি লার্ভা নিধনে ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কিউলেক্স মশার হটস্পটগুলো শনাক্ত করে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে কয়েকটি খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, মাঝেমধ্যে পরিষ্কার অভিযান চললেও নিয়মিত নজরদারির অভাবে খালগুলো আবারও আবর্জনায় ভরে যায় এবং মশার বংশবিস্তার অব্যাহত থাকে। তাই স্থায়ী সমাধানে খাল-নর্দমায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।

মাঝেমধ্যে পরিষ্কার অভিযান চললেও, নিয়মিত নজরদারির অভাবে খালগুলো আবারও ভরাট হয় আর্বজনায়, হয় মশার বংশবিস্তার। তাই স্থায়ী সমাধানে খাল-নর্দমায় পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি ভুক্তভোগী নগরবাসীর।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন