১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতালের অনুমোদন
গত ৮ জুলাই (বুধবার) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি পত্রে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
জারিকৃত ওই পত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং নতুন প্রশাসনিক ১৩টি উপজেলায় ১০১ শয্যাবিশিষ্ট সর্বাধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সানুগ্রহ সম্মতি ও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের এই মেগা সিদ্ধান্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন এবং সেখানে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন জনবল সৃষ্টির (পদ সৃজন) প্রস্তাব দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিদ্যমান ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বৃদ্ধি এবং অনুমোদিত নতুন ১৩টি উপজেলায় হাসপাতাল স্থাপনের লজিস্টিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজিএইচএস) ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে মাত্র ৩১ থেকে ৫০টি শয্যা বা বেড রয়েছে। ফলে বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় শয্যা সংখ্যা কম হওয়ায় গ্রামীণ রোগীদের বাধ্য হয়ে জেলা হাসপাতাল বা ঢাকা-চট্টগ্রামের বড় মেডিকেল কলেজগুলোতে রেফার করতে হতো। এতে রোগীদের ভোগান্তির পাশাপাশি খরচও অনেক বেড়ে যেত।
সরকারি এই যুগান্তকারী উদ্যোগ ও মেগা প্রজেক্ট মাঠপর্যায়ে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার সার্বিক সক্ষমতা, গুরুতর রোগীদের ভর্তি সুবিধা, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রবল আশা প্রকাশ করছেন দেশের স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
|