‘রাজনীতি কেবল ক্ষমতা উপভোগের মাধ্যম নয়, ভাগ্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়া’: তথ্যমন্ত্রী
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) বিশেষ অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় এই মাসব্যাপী সবুজায়ন কর্মসূচিটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ধারাবাহিক সামাজিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জানান, দেশের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্রান্তিকাল ও তীব্র সংকটকাতেও এই ফাউন্ডেশনটি ধারাবাহিকভাবে আর্তমানবতার সেবা এবং মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফাউন্ডেশনের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কো-চেয়ারম্যান ডা. জোবাইদা রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার ও ভবিষ্যৎ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল प्रशासनिक ভবনের সামনে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন আর রশিদ এবং ছাত্রদলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পরে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নির্ধারিত চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী চলমান এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ও সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন মন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রচলিত গতানুগতিক ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে এসে এ দেশে প্রথম উৎপাদনমুখী ও তৃণমূলের জনকল্যাণভিত্তিক রাজনীতির বাস্তবসম্মত ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের কৃষি, খাল খনন বিপ্লব, পরিবেশ সংরক্ষণ, দেশব্যাপী সবুজায়ন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছিলেন। ঠিক সেই পথ অনুসরণ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিভিন্ন উদ্ভাবনী সামাজিক কর্মসূচি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং দেশের সর্বস্তরের মেহনতি মানুষকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।”
সরকারের পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমে বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনের তৎপরতা অব্যাহত রাখার জোর তাগিদ দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে রাজনীতি কেবল মসনদে বসে ক্ষমতা ভোগ করার কোনো হাতিয়ার নয়, রাজনীতি মূলত জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি পবিত্র প্রক্রিয়া। সেটা যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় যাক বা যেতে চাক না কেন, তা তাদের মাঠপর্যায়ের কাজের মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রমাণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে ইতিমধ্যে সেটি প্রমাণ করেছেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের সুচারু সঞ্চালনায় এবং উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন আর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বর্তমান প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান (শিরীন) এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম (ডোনার)।
সমাপনী এই অনুষ্ঠানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিক্ষাবিদ ও অন্যান্য বক্তারা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ও জনকল্যাণমূলক রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিক শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
|