বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে দেশের শীর্ষ তিন আলেমের আহ্বান
বিশেষ প্রতিনিধি: টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিসহ দেশের বেশিরভাগ পাহাড়ি অঞ্চল এবং সিলেটের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন দেশের তিন জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার— আল্লামা মামুনুল হক, শায়খ আহমাদুল্লাহ ও মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পৃথক পৃথক বার্তায় তারা এই আহ্বান জানান।
মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “বৃহত্তর চট্টগ্রামের বহু এলাকা বন্যায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ পর্যন্ত ৩৩ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।”
দুর্যোগ মোকাবিলায় সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াই। সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, বেসরকারি দাতব্য সংস্থা, মানবিক সংগঠন এবং দেশের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান— জরুরি ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।” ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে তিনি যুক্ত করেন, “আল্লাহ তাআলা ক্ষতিগ্রস্ত সকল মানুষকে হেফাজত করুন এবং দ্রুত এই দুর্যোগ থেকে মুক্তি দান করুন।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে বন্যাকবলিত এলাকার চিত্র তুলে ধরে লিখেছেন, “দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি আজ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একইসাথে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বহু এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে।”
তিনি সরকারি তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, “দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র চালু রাখা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম গঠন এবং পুনর্বাসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের অপরিহার্য দাবি।” পাশাপাশি তিনি তাঁর সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্রুত স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন এবং দেশবাসীকে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধের আলোকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানি ও মানবিক দায়িত্ব।”
জনপ্রিয় আলেমে দ্বীন ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পেজে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের (আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন) টিম চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। খুব শিগগিরই দুর্গতদের মাঝে জরুরি ত্রাণ এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ।”
কমেন্টে একটি সম্পূরক বার্তা দিয়ে তিনি আশপাশের সর্বস্তরের মানুষকে উপদ্রুত এলাকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
এআইএল/সকালবেলা
|