ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশবাসীকে দেশের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারী। মতভিন্নতা যেন প্রতিহিংসা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানই একটি মানবিক সমাজের মূল চালিকাশক্তি। তাই ঘৃণা নয়, ঐক্য ও ভালোবাসার শক্তিতেই আগামীর পথচলা অব্যাহত রাখতে হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে ড. মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে জনগণ আবারও তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সচেতন ও সংযমী হওয়া জরুরি। নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গতিধারা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তাই ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলনে জাতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, উসকানি ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র তৈরি হতে পারে। ফলে প্রতিটি বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সমাজে মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন প্রতিহিংসা কিংবা রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ না নেয়। মনে রাখতে হবে, দেশটি আমাদের সবার, আর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও আমাদেরই।
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়াকে বেদনাদায়ক বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যুক্তিসংগত আলোচনা করতে পারি, কিন্তু অসম্মান নয়। ভিন্নমতকে তুচ্ছ না করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে হবে।
রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ট্যাগিং ও ব্যাশিংমুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি দেখতে চায়। দোষারোপের রাজনীতি নয়, ইতিবাচক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরাই হওয়া উচিত। জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে কারো কল্যাণ নেই।
একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আঠারো কোটি মানুষ একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন প্রত্যাশা করে।
ভোটকে আমানত উল্লেখ করে ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সচেতনভাবে ভোট দেওয়া নাগরিকদের দায়িত্ব। পাশাপাশি তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে আল্লাহর কাছে দোয়ার আহ্বান জানান।
পরিশেষে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন, সবাইকে তা মেনে নিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। কারণ নেতৃত্ব পথ দেখাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয় ঐক্যবদ্ধ জনগণ। তাই সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
আই.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ