ইরান যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা লুকানোর অভিযোগে তথ্য বদলাল পেন্টাগন
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধে মার্কিন সেনাসদস্যদের হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা লুকানো ও কমিয়ে দেখানোর তীব্র অভিযোগের মুখে নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশের পদ্ধতিতে কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। একই সঙ্গে নতুন প্রক্রিয়ায় হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে পেন্টাগন স্বীকার করেছে যে, চলতি জুলাই মাসে আহত হওয়া মার্কিন সেনাদের সংখ্যা তাদের পূর্ববর্তী প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
মার্কিন শীর্ষ সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস'-এর বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৭ জুলাই থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গিয়ে নতুন করে যখন রক্তক্ষয়ী লড়াই শুরু হয়, তখন থেকে পেন্টাগন তাদের ক্যাজুয়ালটি ডাটাবেজে বিতর্কিত পরিবর্তন আনে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায়, ৭ জুলাই-পরবর্তী সেনা হতাহতের তথ্য ইরান যুদ্ধের মূল অফিশিয়াল তালিকা থেকে একপ্রকার সরিয়ে নিয়ে ‘বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে হতাহতের তথ্য’ শিরোনামের পৃথক একটি ওয়েবপেজে আলাদাভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে যুদ্ধে মোট কতজন মার্কিন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন, তা সঠিকভাবে জানতে মার্কিন নাগরিক ও সাংবাদিকদের দুইটি ভিন্ন ওয়েবপেজের হিসাব যোগ করতে হচ্ছে।
তথ্য গোপন ও প্রকাশের নতুন ব্যবস্থার কারণে পেন্টাগনের নিজস্ব তথ্যভান্ডার 'ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমে' (ডিসিএএস) ৭ জুলাইয়ের পর থেকে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের অফিশিয়াল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৭ জনে। আর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা পৌঁছেছে ৬২৪ জনে। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন সেনা নিহতের মোট সংখ্যা ১৮ জন বলে পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে পেন্টাগন রহস্যজনকভাবে চার সেনার মৃত্যুর তথ্য ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়ে নিহত সেনা সংখ্যা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৪ তে নামিয়ে এনেছিল।
এই তথ্য কারচুপির তীব্র সমালোচনা করে গত সপ্তাহে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছিলেন, তথ্য গোপনের সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল। তবে সাবেক সেনা, সামরিক পরিবার এবং মার্কিন আইনপ্রণেতাদের চরম অসন্তোষের মুখে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ এটিকে ‘অস্থায়ী তথ্যগত ত্রুটি’ বলে অভিহিত করতে বাধ্য হন।
পরিস্থিতি গড়াতে থাকলে ডেমোক্র্যাট দলের একদল প্রভাবশালী সিনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়ে যুদ্ধে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যা সম্পর্কে ‘পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য’ স্বচ্ছ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের কঠোর দাবি জানান।
ইতোমধ্যেই ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (War Powers Act)-এর দোহাই দিয়ে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া অভিযান চালানোর প্রতিবাদে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে অথবা কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার জোর তাগিদ দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশেষ প্রস্তাব পাস করেছে।
|