নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা ও ধসে নিহত বেড়ে ১৫৭

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা ও ধসে নিহত বেড়ে ১৫৭
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ধ্বংসস্তূপ ও উদ্ধার তৎপরতা (ছবি: সংগৃহীত/রয়টার্স)।

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা এবং একের পর এক পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ভয়াবহ দুর্যোগে এখনও ২৬টি দেশের ৩৪১ জন বিদেশি পর্যটকসহ মোট ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও সিএনএন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক এ বিপর্যয়ের পর নেপালের রাসুয়া জেলা এবং চীনের তিব্বতের গিরং অঞ্চল কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। প্রলয়ঙ্করী পানির স্রোত ও কাদার ঢলে সড়ক যোগাযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সেতু, ঘরবাড়ি এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো পুরোপুরি ভেসে গেছে।

নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উপদ্রুত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯, ধাদিংয়ে ১৮, নুয়াকোটে ১১, নওয়ালপুরে ১১, তানাহুঁয়ে ৭ এবং রাসুয়ায় একজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর মিলেছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক এবং ৬১ জন নেপালি। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ।

রয়টার্স জানিয়েছে, নেপালের ভোতে কোশি নদীতে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পর নদী তীরবর্তী লোকালয় মুহূর্তেই প্লাবিত হয়। একই সময়ে তিব্বতের গিরং বন্দর সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বিশাল কাদা ও পাথরের ধস নেমে জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, মৃদু কোনো ভূমিকম্পের প্রভাবে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে গিয়ে এ রূপ ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রাসুয়া জেলার সিয়াপ্রুবেশি ও তিমুরে এলাকা। পাহাড়ি নদীগুলোর পানির তোড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকারী সামরিক হেলিকপ্টার পৌঁছাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

এদিকে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকাতেও হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নেপাল সীমান্ত উপচে আসা এ ঢল ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যেও নতুন করে বন্যা ও প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি করায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

মন্তব্য করুন