রাশিয়ার মাউন্ট এলব্রাসে প্রবল ঝড়ে বসনিয়ার ৫ পর্বতারোহীর মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপ মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ রাশিয়ার মাউন্ট এলব্রাসে আকস্মিক ও চরম তুষারঝড়ের কবলে পড়ে ইউরোপীয় দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পাঁচজন অভিজ্ঞ পর্বতারোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পর্বতজুড়ে চরম বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় এখন পর্যন্ত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে নিচে নামানো সম্ভব হয়নি।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘রিয়া নভোস্তি’-র প্রতিবেদনে রাশিয়ার উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের বরাতে এই ট্র্যাজেডির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় জানায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৩৫০ মিটার ভয়াবহ উচ্চতায় ঝড়ে আটকে পড়া সাত সদস্যের ওই পর্বতপ্রেমী দলের সন্ধান মেলে। সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলেও বাকি পাঁচজনের কারোরই জীবন রক্ষা করা যায়নি। প্রথম দফায় দুইজনের লাশ উদ্ধার সম্ভব হলেও পরবর্তীতে তদন্তকারী দল আরও তিনজনের লাশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
রাশিয়ার জাতীয় তদন্ত কমিটির আঞ্চলিক শাখা জানিয়েছে, মাউন্ট এলব্রাসের চূড়ার কাছাকাছি চরম হিমশীতল তাপমাত্রা, প্রচণ্ড গতিবেগের ঝোড়ো বাতাস ও দৃশ্যমানতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় পাহাড়ের ওপর থেকে বাকিদের মরদেহ নামিয়ে আনার উদ্ধার অভিযান তীব্রভাবে ব্যাহত ও জটিল হয়ে পড়েছে।
যদিও রুশ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কৌশলগত কারণে নিহতদের পরিচয় ও জাতীয়তা আনুষ্ঠানিকভাবে দ্রুত প্রকাশ করেনি, তবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাতে 'রিয়া নভোস্তি' নিশ্চিত করেছে যে প্রাণ হারানো পাঁচ পর্বতারোহীই ইউরোপীয় দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার নাগরিক।
বসনিয়ান স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাত সদস্যের এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রী দলের সব সদস্যই দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শিল্প শহর ‘জেনিৎসা’-র বাসিন্দা ছিলেন। দুর্ভাগ্যজনক এই অভিযাত্রী দলে এক দম্পতি ও স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালের নামজাদা একজন নারী চিকিৎসকও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাশিয়া ও জর্জিয়া সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত মাউন্ট এলব্রাসের উচ্চতা ৫ হাজার ৬৪২ মিটার (১৮,৫১০ ফুট)। প্রতি বছর শত শত অভিযাত্রী এটি জয়ে এগিয়ে এলেও হঠাৎ চরম আবহাওয়া পরিবর্তন, মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রা ও অনাকাঙ্ক্ষিত তুষারঝড়ের কারণে পর্বতটিকে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে অন্যতম বিপজ্জনক বলে গণ্য করা হয়।
|