বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স প্যারিসসহ প্রধান শহরগুলোতে সংঘর্ষ

প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স প্যারিসসহ প্রধান শহরগুলোতে সংঘর্ষ

অনলাইন ডেস্ক: জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, জ্বালানির চড়া মূল্য এবং সরকারি সেবার মানের চরম অবনতির প্রতিবাদে আবারও গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ লিওঁ, লিল, তুলুজ, নঁত, মার্সেই এবং বোর্দো শহরের রাজপথে নেমেছেন লাখো ক্ষুব্ধ মানুষ। গত সপ্তাহের সহিংসতার পর এবার শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান নিয়েছে ফরাসি সরকার।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় ১০ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও জেন্ডার্ম (সামরিক কাঠামোর অধীন পুলিশ) মাঠে নামানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিট, সাঁজোয়া যান, জলকামান এবং হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়। এমনকি রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক শঁজেলিজেস এলাকায় সেনাসদস্যদেরও নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ও তল্লাশি অভিযানের মুখে প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে ধাতব বল, সিসার ছররা, আতশবাজি, গুলতি, কাতানা ও এয়ারসফট অস্ত্রসহ বিভিন্ন বিপজ্জনক সামগ্রী জব্দ করেছে পুলিশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, "কোনো ধরনের সহিংসতা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না।"

সম্ভাব্য ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কায় প্যারিসের অনেক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় তাদের দোকানের কাচের সামনে কাঠের প্যানেল বসিয়ে রাখেন। ল্যুভর জাদুঘর, মিউজে দ’অরসে, প্যারিস অপেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় প্যারিসের ২০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন। প্যারিসের মূল মিছিলটি বড় কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছালেও, লিওঁ, লিল, তুলুজ ও নঁতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশজুড়ে আনুমানিক ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। তবে প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন ‘সিজিটি’-র দাবি অনুযায়ী, এ সংখ্যা ছিল অন্তত আট লাখ। কেবল প্যারিসেই আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে বলে দাবি তাদের। বর্তমান এই আন্দোলনে ঐতিহ্যবাহী ‘ইয়েলো ভেস্ট’ (হলুদ জ্যাকেট) কর্মীদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন। শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট ও শিক্ষকস্বল্পতাও এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু। আন্দোলনকারীরা আগামী ৩১ অক্টোবর ফের দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। এছাড়া বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার যদি জনগণের দাবি না মানে, তবে আগামী ৫ নভেম্বর দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হবে।

সকালবেলা / নুসরাত