আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো কলকাতায় ক্ষমতায় আসার পথে গেরুয়া শিবির। সোমবার (৪ মে ২০২৬) বেলা ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৩টি আসনের মধ্যে ১৯২টিতেই এগিয়ে আছে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মোট আসন ২৯৪টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮। বর্তমানে বিজেপি ১৯২টি আসনে এগিয়ে থাকায় তাদের ক্ষমতায় আসা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে মাত্র ৯৫টি আসনে। বামপন্থি সিপিএম ১টি এবং অন্যান্য প্রার্থীরা ৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছেন।
নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। ওই আসনে আগামী ২১ মে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ফলাফল প্রকাশিত হবে ২৪ মে। ফলে আজ ২৯৩টি আসনের গণনা চলছে।
সবার নজর এখন ভবানীপুর আসনের দিকে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। প্রতি রাউন্ডের গণনায় সেখানে ব্যবধান কমছে-বাড়ছে, যা নিয়ে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এছাড়া ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষের মতো তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভবিষ্যৎও আজ নির্ধারিত হচ্ছে।
বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল এবং অর্জুন সিং এগিয়ে রয়েছেন। বিশেষভাবে আলোচনায় আছেন আর জি কর হাসপাতালে নিহত ছাত্রীর মা রত্না দেবনাথ (বিজেপি প্রার্থী), যার ফলাফল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
শান্তি বজায় রাখতে পুরো রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা এবং তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের কিউআর কোড যুক্ত পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং কঠোরভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভোট গণনার শুরুতে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিললেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান বাড়তে থাকে। বিকেল নাগাদ চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হবে, তবে বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন রাজনৈতিক ইতিহাসের সূচনা হতে যাচ্ছে।