মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Elections) রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে নিজস্ব তহবিল থেকে ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত বিপুল অর্থ ব্যয়ের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান বলে এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে রিপাবলিকান প্রচার তহবিলের ধীরগতি এবং ট্রাম্পের সম্ভাব্য ব্যয় সংকোচন নীতি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের মাঝে বেশ কিছুদিন ধরেই গভীর উদ্বেগ ও সংশয় কাজ করছিল। দলের সেই উদ্বেগকে সরাসরি নাকচ করে ট্রাম্প আশ্বস্ত করেন যে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে যত অর্থ প্রয়োজন হবে, তিনি তা ব্যয় করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ট্রাম্প দৃঢ়তার সাথে জানান, তাঁর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন রাজনৈতিক তহবিলে বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার গচ্ছিত রয়েছে এবং এই বিপুল অর্থের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এককভাবে তাঁর হাতে। দলের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে সেই তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ ছাড় দিতে তিনি বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করবেন না।
রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি সংশয় ছিল যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠ চাঙ্গা করতে ট্রাম্প আদৌ তাঁর ‘সুপার প্যাক’ (Super PAC)-এর তহবিল থেকে পর্যাপ্ত অর্থ যথাসময়ে ছাড় করবেন কি না। এতদিন মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের বিজ্ঞাপন ও ব্যয় দৃশ্যমান না হওয়ায় দলের ভেতরে অসন্তোষ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছিল।
তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ভোটের আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকায় শেষ মুহূর্তে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ঢেলে নির্বাচনী সমীকরণে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের এই শেষ প্রান্তে এসে অধিকাংশ দোদুল্যমান ভোটার ইতোমধ্যে তাঁদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। পাশাপাশি প্রচারণার শেষ মুহূর্তে জাতীয় ও আঞ্চলিক টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রাইম-টাইম বিজ্ঞাপন স্লট বা প্রচার সময় নিশ্চিত করাও এক বড় প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
রিপাবলিকানদের জন্য আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্যতম তীব্র ও মর্যাদার লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন লড়ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে। এই আসনে বর্তমান প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিনকে বাদ দিয়ে নিজ পছন্দের প্যাক্সটনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন ট্রাম্প, যা সিনেটের শীর্ষ রিপাবলিকান নেতৃত্বের ইচ্ছার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল। ফলে টেক্সাসের এই মর্যাদার লড়াইয়ে জয় পাওয়া ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কর্তৃত্বের জন্যও অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
এ ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তাঁর ব্যক্তিগত এই শক্তিশালী রাজনৈতিক তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হতে পারে, যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমেরিকান ভোটাররা তাঁর উত্তরসূরি বেছে নেবেন।