ইসরায়েলে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান (আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার) নির্মাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সামরিক সহায়তা দিতে পারে—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নথিতে।
সোমবার ইসরায়েলের দৈনিক হারেৎজ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে নির্মাণাধীন একটি নতুন সাঁজোয়া যান কারখানার অর্থায়নে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তাদাতা যুক্তরাষ্ট্র জড়িত থাকতে পারে। যদি তা হয়, তাহলে এটি ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তার পরিমাণ আরো বাড়াবে, যা একটি ১০ বছর মেয়াদি চুক্তির অংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছর মেয়াদি ‘আর্মার্ড ভেহিকল অ্যাক্সেলারেশন প্রজেক্ট’-এর আওতায় ইসরায়েল তাদের সাঁজোয়া যান বহর বাড়ানোর পাশাপাশি মেরকাভা ট্যাংক এবং নেমার ও এইতান ধরনের সাঁজোয়া যান উৎপাদনের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
এসব যান ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত হয় এবং দেশেই উন্নত করা হয়েছে।
গাজা ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গত আগস্টে ইসরায়েলি সরকারের প্রতিরক্ষা ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়।
হারেৎজ জানায়, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স (ইউএসএসিই)-এর দুটি উপস্থাপনায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে প্রকল্পটির অর্থায়ন, পরিকল্পনা, নকশা ও নির্মাণকাজে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত থাকতে পারে।
ইউএসএসিই সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য কারিগরি, প্রকৌশল ও নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, যেগুলোর অর্থায়ন অনেক সময় মার্কিন সহায়তা থেকে আসে।
এর আগে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছিল, তখনকার ঘোষণাগুলোতে কোনো বিদেশি অর্থায়নের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, বছরে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা ও গাজা যুদ্ধের পরবর্তী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সরাসরি ২১.৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে—এমন তথ্য দিয়েছে কুইন্সি ইনস্টিটিউট।
এ ছাড়া ভবিষ্যৎ বছরগুলোতে পরিশোধ ও সরবরাহের জন্য প্রতিশ্রুত অস্ত্র ও সেবা বিক্রির চুক্তির পরিমাণ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের কস্টস অব ওয়ার প্রজেক্ট–এর হিসাব অনুযায়ী, এসব চুক্তির মূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার।
ফলে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থকদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মিডল ইস্ট আই–এর মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে তারা হারেৎজ–কে জানিয়েছে, ‘বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক জেএসএমসি কর্মসূচি নেই। তাই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে কর্মসূচিগুলো বিবেচনা করছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তাদের কাছেই করা উচিত।
’
মন্তব্য করুন