৪২০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এক্সপ্রেসওয়েতে ১২ দিনেই ফাটল

প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ণ
৪২০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এক্সপ্রেসওয়েতে ১২ দিনেই ফাটল
ফাটল ধরা লখনউ-কানপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বেশ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের বহুল আলোচিত লখনউ-কানপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। তবে চালু হওয়ার মাত্র ১২ দিনের মাথায় ৪ হাজার ২০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এই দামি এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বেশ কিছু অংশ ধসে পড়েছে।জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) প্রবল বর্ষণ ও কারিগরি ত্রুটিকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করলেও, উত্তর প্রদেশের বিরোধী দলগুলো নিম্নমানের কাজ ও কোটি কোটি রুপির দুর্নীতির অভিযোগ এনে সরব হয়েছে।গত ১৩ জুলাই লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড ন্যাশনাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি।কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র ১২ দিনের মাথায় সোমবার সমাজবাদী পার্টির নেতা মধুসূদন যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করলে হুলস্থুল পড়ে যায়। উন্নাওয়ের কোরারি গ্রামের কাছে প্রকাশিত সেই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিটারের একটি অংশ ধসে গেছে এবং পিচের ওপর বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। এই ধরনের ফাটল যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।অবশ্য বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তড়িঘড়ি করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে পুনরায় এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (এনএইচএআই) প্রকল্প পরিচালক নকুল প্রকাশ ভার্মা জানান, মূল সড়ক বা নিচের স্ট্রাকচারে কোনো স্থায়ী ধস নামেনি। টানা ভারি বর্ষণের ফলে ওপরের পিচের আস্তরণ আলগা হয়ে প্রায় ৪০ মিটার এলাকায় পিছলে গেছে।তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, পিচ দিয়ে তৈরি দীর্ঘ মহাসড়কগুলোতে কাজ শেষ হওয়ার পরপরই অপ্রত্যাশিত ভারি বৃষ্টি হলে এ ধরনের টেকনিক্যাল বা কারিগরি সমস্যা তৈরি হতে পারে। উন্নাওয়ের কোরারি এলাকায় পাশের মাটির বাঁধ বৃষ্টির তোড়ে ধুয়ে যাওয়ায় ওপরের পিচ আলগা হয়ে যায় বলে এনএইচএআই দাবি করেছে।


মন্তব্য করুন